Translate

Wednesday, December 20, 2017

তোমার ঢাকা

ঢাকা শহর তোমার অপেক্ষায় রংহীন ওপেল
ক্রিসেন্ট লেকের ধারে পত্রহীন বানরলরী
ধোয়াচ্ছন্ন আকাশে বেগুনী তারা নিভু নিভু
রিং রোডের প্রাণ চাঞ্চল্য থেমে গেছে একদম
শুধু তুমি নেই বলে ঢাকা আজ অন্ধকার।
ঢাকা বহু ব্যবহারে মলিন, ফুল-পাখি শূন্য
তোমাকে আক্রিষ্ট করার মত ইমারত
কিংবা প্রশস্ত রাস্তা, বিত্তের জৌলুষ
কিচ্ছু নেই এখানে।
তবুও বারবনিতার ভালোবাসার এই শহর
ডিসেম্বরের কুয়াশায় ভেসে গেছে সন্ধ্যা
তারপরও এখানের বাসিন্দারা ভাপা পিঠের
ওম নিচ্ছে, কোন কারন ছাড়াই বন্ধুতা
ঢাকা, এই ঢাকা, একবার প্লিজ ডাকোনা ওকে, বলে দিয়ো সারা জীবন ধরে ভালোবাসছি, শ্রী হীন আমি এই শহর
তবুও এখানেই তোমার পিতা
অপেক্ষায় থাকে
প্রিয় ক্ণ্যার  মুখটি দেখার জন্যে।


Tuesday, December 12, 2017

বৃষ্টি ভেজা মেঘ

স্বপ্ন ভরা রঙিন আরশি দেখছি কল্পনা
কাটার ঘায়ে ঝরছে রক্ত আঁকছি আল্পনা
কাঁদছে রিদয় হাসছি তখন ভীষণ যন্ত্রণা
তবুও তো তোমায় ভাবছি এইতো সান্তনা।
পথ হারিয়ে ঘুরছি শুধু গহীন বন এর পথে
সারা দিন সারা রাত্রি হাটবো বলে সাথে।
আমি নিশুতি রাতের মেঘ
সকাল হলেই নেই হয়ে যাই
বৃষ্টিতে ধুয়ে শেষ।

Monday, December 11, 2017

ভুল

মালনিছড়া পেরিয়ে গাড়ীটা সিলেট শহরে ঢুকতেই
ধক করে উঠল বুকটা
না এটা হতেই পারে না
ও আছে শত মাইল দূরে।
এ রকমটা প্রায়ই হচ্ছে আজকাল
হয়ত চুলের গড়ন কিংবা ঘাড়
একি উচ্চতা গায়ের রং
ভুলটা হয় পেছন থেকেই বেশি।
আমার শত ব্যস্ততা সারা, জীবনেও
এই এক তুমি ছাড়লে না আর
এক মূহুরতের জন্যও
খুব হতো তোমারো এমন হলে।

Saturday, December 9, 2017

বিদায়

আমার সময় শেষ হলো বলে
কত পুরনো পরিচিত এই পথ
জোড়ে দৌড়ালে তখনো হোচট খেতাম
হাত ঘষে দিতাম সবুজ ঘাসে
প্রতিদিনই অবাক হতাম কাঁঠালিচাঁপার গন্ধে
কাঁঠালের গন্ধ কেনো এতো সুন্দর ফুলে,
অনেক বড় হয়ে অবশ্য বুঝেছি
মানুষ ও এমনি।
জীবনে প্রথমবার যখন রাধাঝুমকো দেখি
কি বিস্ময় আমার,
কাঠঠোকরার অদ্ভুত সুন্দর রং,
নীল শাপলা দেখবো বলে
খুব ভোরে তাড়াহুড়ো করে শালবনে
বিল দেখলাম প্রথম
ফেরার পথে হাতে পানিফল
কি আশ্চর্য! পানির নিচের ফল।
আমার অবাক হওয়া আর শেষ হলো না
ছাতিম তলায় দাঁড়ালে আমি
এখনো অবাক হই।
এক জীবনের কত গল্প ফুরোয় তো না
কিন্তু সময় যে আর নেই হাতে
ইচ্ছে ছিল আমাজানে যাব লিলির খোঁজে
ইচ্ছে ছিল সারা, রাত্রি গল্প করব
তোমার হাত ধরে।
এসব ই এখন মূল্যহীন নিমিষে
আমার সময় শেষ হলো বলে।
৯/১২/১৭

Friday, December 8, 2017

নিলামে প্রেম

এক শতাব্দীর প্রাচীন পাকুড়
শক্তকান্ড প্যাঁচিয়ে এক রাশ ঝুরি
এ সময়টায় রক্ত লাল ফলে ছেয়ে আছে
বত্রিশ নম্বর ব্রিজের গোড়ায়।
লেকের পানি মজে মরে আছে
আজকালতো এই জল অস্পৃশ্য
বিশ্বাস হারানো মানুষের দল
পরস্পরকে সরিয়ে দিচ্ছে
কেনো কে জানে?
বন্য মেয়েটাকে বলেছিলেম -
দিল্লী দেখাতে নিয়ে যাবো
কুতুব মিনার কতটা হেলে আছে
কিংবা রেড ফোরটের
শতাব্দী প্রাচীন অহংকার
মোগল কাবাব আর সূরার পাত্র
মাতাল হয়ে শাহজাহানের সায়ের বলব-
প্রেয়সী আমার পাকুড় গাছটা দেখতে পায়নি
সময়টা ওর বিক্রি হয়ে গেছে অন্যখানে
কবিতারা মার খেয়ে বেড়াচ্ছে
লেকের জলে মরা ফুলের ঘ্রাণ
বংগবন্ধুর বাড়ীটাই শুধু আছে
দোলনচাঁপার বাগানটা আর নাই।

সম্বোধন

সাগর জলে ধুয়েছো আকাশ
রাতের শীতল যাচ্ছে চলে আলোয়ানে
বন্য ফুলের গন্ধ তোমার গায়ে
নরম খোঁপায় পড়ছে দীর্ঘশ্বাস
তপ্ত বাতাস আপ্ত মনে গাইছে
হুরপরী আজ নরম পায়ে হাটছে
রাঙা ওষ্ঠে রং ধরেছে আজ।
প্রণতি

পদ্ম তোমায়
তিরিশ হাজার পদ্মকলি
পদ্ম তোমার
পদ্মযুগল চুম্বনে
সাতসকালে চুলের সিথির অংগনে
এক ছড়া মেঘ মাখিয়ে বলি
ভালোবাসি।
পদ্ম তুমি মাতাল সুরা
সাইপ্রাসের পত্রে মোড়া নীল তারা
আমার কষ্ট কাটায় বিদ্ধ
কেসেন্ড্রা।

৮/১২/১৭


Thursday, December 7, 2017

লোভী

অগ্নুৎপাতে ভাসছে দুকূল
মরছে আত্মা উড়ছি আমরা ধংস আর
দানব খেকো শকুনগুলো গিলছে
প্রেমের যক্ষে শূন্যতা শুধু বাড়ছে।
কেসেন্ড্রাদের উদ্যানে বাস দেবী আলয়
মত্ত সুবাস চন্দ্র আলোয়
এক নিমিষে এক তুড়িতে খেলছে দাবার ঘুটির মতন,
আমার জীবন।
আমরা মানুষ একলা মানুষ বক্রদৃষ্টি
সুখের খোঁজে লোভীর মতো চেয়ে থাকি
একজীবনের অনাহারী
কেসেড্রাদের উদ্যানে আজ সুরাতসোবের নিয়ন বাতি
লোভীর মতো চেয়ে থাকি।

৭/১২/১৭

Wednesday, December 6, 2017

কবির কংকাল

আমি নক্ষত্র ছুঁইতে হিমালয়েও গেলাম
কিন্তু মথুরার জংগল গিলে নিলো
আমি একটু সুখের লোভে হাত দিয়েছিলাম
রক্তকরবি ঝাড়ে
ফুল থেকে শুধু  রক্তই ঝরলো।
আমি আর কোন দিন নক্ষত্র চাইব না
ফুল থেকে ভুলে গান লিখবনা
টোপা পানায় গন্ধ শুকব না
জোড়া হাতে আর ভুলে জল নিব না।
ইট কাঠের বস্তিতে
আরো একটা কবির কংকাল যোগ হলো
এখানে এপিটাফের কোন প্রয়োজন নেই।

৬/১২/১৭

Sunday, August 20, 2017

স্পর্শ - ২

অশ্রু ঝরা সন্ধে তোমার
বিরল পাখির মন
বুকের মাঝে লিলির গন্ধ
উড়ছে নিরন্তন।

স্তব্ধ রোদে কাঁপছে আকাশ
হাসছে নিষাদ গাইছে বিষাদ
ঝিম ধরেছে উষ্ণ তোমার
দারুন এ চুম্বন।

ওগো নরম চোখের জল
সারা দেহে ধারন করি
শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরি
স্পর্শ অচিন্তন।

Monday, April 17, 2017

বিস্ময়ে

আমি বিস্মিত নিশ্চুপ হয়ে
তাকিয়ে থাকি অবাক বিস্ময়ে
অসিম তোমার পানে
আমার ঘরে আগুন লেগে
ছাই হয়ে যায় আমি তবু
নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকি অনন্তরে
কেন মেঘ ঢেকে রাখে তোমাকে। 

Wednesday, April 5, 2017

অস্থির সময়ে

এখানে প্রেম নয়
নয় অর্থ কিংবা সন্মানের আকাঙ্ক্ষা
নেই নিরাপত্তা হারানোর ভয়
এখানে নেই এমনকি দিগন্ত ছোয়ার সামান্য তাড়না
এখানে এসে এক ফুতকারে নিভে যায় আমার রুহ
সব কিছু শুরু হলো এখানেই।
কবে কোন দেবী অর্ঘ ফিরিয়ে দিয়েছে
পুজারীতো ক্লান্তিহীন সপ্নবাজ।

এখানে অর্থহীন ছিলো সবকিছু
অস্তিত্বহীন রাজ্য
শুধু কল্পনা ছিল অস্থির সময়ের জন্য।

Tuesday, April 4, 2017


                       তৃষ্ণা 

তোমার পায়ে পা জড়িয়ে আঙুল দিয়ে ভালোবেসে
প্রেম করছিলেম
আর সবাই ব্যস্ত ছিল রেস্তোরাঁতে আঁধার কালো
আমরা খেলছিলেম।
তোমার চিমটি আমার বাহু দাগ এখন তো নেই
তবু শরীর জাগে ভাবলে তোমাকেই।

আমি যখন আদর করি তোমার চোখে জল
তুমি আর কারুরি নও।
তোমার সংসার তোমার গন্ধ আমার এখন নয়
তবু তৃষ্ণা আমার তোমার ঘরেই হয়।
                               ৩/৪/১৭

Monday, March 27, 2017

                               স্পর্শ
স্বপ্নে তোমার গায়ের গন্ধে চমকে গেছি আমি
তোমার স্পর্শ আমার গায়ে মাখছি অহরনিশি
এ শরিরে তোমার আদর তোমার চুম্বন আমার স্পন্দন
আমার অঙগে লেগে আছে আজো তোমার গায়ের চন্দন। 
যে ওষ্ঠে লেগে আছে কেসেন্ড্রার উত্তাপ
সেখানে আঙুর সুরাও যে বিষাদ হয়ে যায়,  
কেসেন্ড্রার স্পর্শীত এ শরীর 
জাগে না কোন আদরে,
পারফিউম এর গন্ধে পাই লোবানের মৃত সুবাস!
ঘ্রাণ শক্তি মরে গেছে আমার
যে তোমারে পেয়েছে সে কি আর কোন  ঘ্রাণ পাবে কখনো?
যে তোমার স্পর্শ পেয়েছে একবার 
তার শরীর জাগবে আর কার স্পরশে? 
যে তোমার ওষ্ঠ ছুঁয়েছে একবার
তার জন্নে মরে গেছে আর সব চুম্বন।