Translate

Thursday, October 31, 2013

দেবী, প্রেম ও কবি 

কি চাই জানো না !
তোমার বুকে মুখ গুজে থাকি, 
                        পার হয়ে যাক না 
                         এভাবেই এ জীবনটা -
...বুক ভরে ঘ্রাণ নেই ঐ কেশগুচ্ছে। 

রাজকণ্যা তুমি কেসেন্দ্রা !
একদিন সত্যি বলছি আমি 
ঐ ওষ্ঠে দেব মরণ চুম্বন 
                তারপর তখন থেকে 
                থাকবেনা আর সবার -
                প্রেমের দেবী হয়ে - 
অনন্তকাল তুমি শুধুই থাকবে আমার কোলে। 

দেবী হয়ে ছিলে বহুদিন ধরে !
নিজ প্রেমে মগ্ন প্রভু একদিন 
বানালো এক মানবকে প্রেমের কবি করে,
                       কবি প্রেমেও কি দেবী - 
                       হয়ে ওঠে কখনো মানবী ,
তবে দেবীত্ব বিসর্জনে মানবী হয়ে এসো 
 দেখবে কত ভালোবাসি তোমারে।  
বিষাদ বিধুর বেলা

তোমায়  নিয়ে আমার সব কষ্টগুলো
জমে আছে বুনো ঘন ঘাসপাতার ফাঁকে
গাড় বেগুনী ফুলের মাঝে -
ভোরের শিশির হয়ে।

আজ সকাল থেকেই ভীষণ বৃষ্টি
ভীষণ ঝড়ো হাওয়া
বৃষ্টি জলে যাচ্ছে ধুয়ে
বিষাদ বিধুর বেলা।

বিষাদকেই বেসেছি ভালো
বিষাদ মাঝেই খুঁজি আমি অহরহ -
তোমার মুখের ছায়া,
তোমায় নিয়ে আমার স্বপ্ন -
তোমার স্পর্শে ভরা।
অপেক্ষা 

 আমার মরণ আসবে মধ্য রাতে 
একলা ঘরে,
মরা চাঁদের সায়াহ্নেতে 
ঘোলা জলের পাত্র হাতে 
একলা ঘরে - মধ্য রাতে। 

বুকের মাঝে এক দলামলা কষ্ট নিয়ে 
কান্না নিয়ে , দুঃখ নিয়ে 
সব হারাবার ব্যথা নিয়ে 
মরণ আসবে, আমার ঘরে হঠাত করে।  
আমার সঙ্গীরা সব হারিয়ে যাবে 
অনেক আগেই,
আমার ভালবাসার মানুষটাতো 
হারিয়ে গেছে বহু আগেই 
আমার সপ্নেরা সব সন্ধে রাতে 
আমায় ছেড়ে ঘর বেঁধেছে বহুদূরে,
আমি তাই একলা ঘরে 
মরণ বাসর বাঁধব বলে অপেক্ষাতে।  

Thursday, October 24, 2013

অমিমাংসিত ভালোবাসা 

সেই পুষ্প,
যে আমায় ভালোবেসেই গেলো 
সারাটি জীবন স্বপ্ন নিয়ে -
আমি তারে ছুঁইনি কভু ভুলে
তবুও ভালবাসার স্বর্গসুধা বিলিয়ে গেলো মোরে। 

আমিতো পাষান ছিলাম এই জীবনে 

সেই পাষাণে আজলা ভরে পুজো দিলে 
দেবী হবার লোভে। 

সেই পুষ্প,
কুন্তলিত কেশে যার মায়াবতী 
গন্ডদেশের রক্তিমতা আমার দেখা 
ভরা জোছনায় মাতাল হয়ে ,
ভুল সময়ে বলতে আমায় 'ভালোবাসি' - 

সেই পুষ্প,
এমন করে পাষাণ কেনো চাঁছতে গেলে ?
দেবতার সর্বগ্রাসী ক্ষুধাটাযে  অন্য গ্রহে
কার্ল মার্কসের সূত্রটাকে মাথায় ধরে 
দেবতা পালিয়ে ছিল বহুদূরে। 
হাতেতে কোদাল কাঁচি 
মনেতে সমাজতন্ত্র 
ভালোবাসার আকাশটাজে বহুদূরে, অচিন দেশে। 

পুষ্প ময়ূর হয়ে আমার ঘরে 
পেখম মেলে দিয়ে 
এসেছিল বাসতে ভালো ছেঁড়া হৃদয়টাকে। 
             (১২/০৮/২০০০)

 

রূপবতী 

শূন্যকে শূন্য দিয়ে গুণ করে চলেছি 
আকাশের নীলকে আকাশের নীল দিয়ে 
খাঁড়া খাদে পর্বত ধরে একেবেকে। 

কাঞ্চন্জন্ঘাকে ছুবো বলে 

আমি চলেছি
সবার মাঝে একাকি 
নিঃসঙ্গ ইয়াকের বেশে। 

ভোতা অনুভূতি খোঁচা খেয়েছে আবার 
ঝিরঝিরে তুষারের মত ছড়িয়ে গেল 
হিমালয়ের সুউচ্চ শিখরে। 

ঝড়, স্বপ্ন, বন্য নাম না জানা অদ্ভূত ফুল 
গান, বৃষ্টি, নদী 
এবং শুধুই মানবী।

মানবী না প্রকৃতি 
বাদ দিলে ছেড়ে যায় সুন্দর 
মানবীরে ছাড়া কাঞ্চন্জন্ঘা 
সাহারাতে রয়ে যায় একাকী।


 
যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে সিমলায় 

লাল নীল বেগুনি হলুদ 
কত শত রঙের খেলা 
বন্য ফুলের গালিচায়
বিছিয়ে আছি আমরা।

তেড়ে ফুড়ে সোজা উচুঁতে 
ঝিরঝিরে পাইনের গান 
মেঘের কাছে 
নিয়ে যাচ্ছে তোমার চুলের ঘ্রাণ 
রেখে যাচ্ছে মেরুন সুরের লহরী। 
ঝুমুরে নিক্কন সিমলার বন্ধন 
আলোয়ানে জড়িয়েছে 
তোমারে আমারে।

মেঘ্কনা শুঁকে যায় শরীরে 
ভিজে যায় মন
প্রিয়ার আমন্ত্রনের ভাষায়। 

তারপর আবার আঁকাবাঁকা পথ ধরে 
অনেক উঁচুতে -
যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে আমাদের।
 
ঘনবনে একদিন 

আল ধরে হেঁটে যাই 
শুকনো পাদুটো ছড়িয়ে
রগগুলো ভেসে আছে 
             কালো শুকনো চামড়া গিলে।

ফেকাশে জমাট কাদা 
নোখের আকৃতিতে এনেছে বিবর্তন; 
উঠে আসি যখন 
দোলন চাঁপার বনে 
মদির সুবাসে নেশা ধরে যায়, 
আঁজলা ভরে তুলে নেই 
           মজানো শিশিরের গন্ধ। 

আকাশ ভেসে যাচ্ছে রবিরশ্মিতে 
প্রবল প্রতাপে ডানা মেলে সাদা বক 
শুভ্র মেঘের খোঁজে 
           গাড় নীল গগনে ,
প্রেত পুরীর মায়া হয়ে 
বহু পুরনো হিজল বৃক্ষ 
জরাজরী করে আছে 
জটাধারী সন্নাসীর বেশে 
অনেকদিন ধরে। 

আমি এগুই আরো সামনে 
মানুষের কাছ থেকে আরো দূরে 
কূলকূল আঁকাবাঁকা খরস্রোতা 
উন্মুক্ত মোটা প্যাচানো শুরের মতন শিকড়কে 
                      ছুঁয়ে যায় ,
হেলে আছে গাছগুলো 
সরু নদীর ওপর আপন মনে ,
তারপর শুরু হলো গহীন বন 
প্রাচীন বৃক্ষ জড়াজড়ি করে !
ঘাশেভরা আর পুষ্পরেনুতে মেখে গায় 
স্বপ্নে পেয়েছে তায়। 

এগুই আরো সামনে -
যেখানে মানুষের সব কষ্টগুলো 
ধুয়ে মুছে যায় 
রেখে যায় শুধু 
আমাদের ভালোবাসার গল্প।



বিষাদ বিধুর বেলা 

তোমাকে নিয়ে আমার সব কষ্টগুলো 
জমে আছে বুনো ঘন ঘাসপাতার ফাঁকে 
গাড় ঝুমকো ফুলের মাঝে - 
জমাট শিশির হয়ে। 

আজ সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি 
দারুন ঝড়ো হাওয়া 
বৃষ্টিজলে যাচ্ছে ধুয়ে -
বিষাদ বিধুর বেলা। 

বিশাদকেই তো বেসেছি ভালো 
বিষাদ মাঝেই খুঁজি অহরহ - 
তোমার মুখের ছায়া,
তোমায় নিয়ে আমার স্বপ্ন 
তোমার স্পর্শে ভরা। 
   (২৩/০৪/২০০৪)

Tuesday, October 22, 2013

বেলাভূমির গান 

আমি সেই বেলাভূমির গল্প জানি -
যার বালুরাশি আমায় ভালবাসে,
যার তীর  জুড়ে এলোমেলো -
হাজারো কোরালের তিক্ষ্ণতা, 
বুনো কেয়ার ঝাড় আর অবিশ্রান্ত বাতাস। 

ঝিলমিল রোদ্র যেখানে নরমনীল স্রোতরাশিতে -
মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে,
উড়ুক্কু মাছের দল ঝাক বেধে লাফিয়ে ঝাপিয়ে 
ছুতে চায় কাকে?

আমি সে বেলাভূমির গল্প জানি -
যেখানে হাজারো  নাম না জানা বেগুনী ফুলেরা - 
অপেক্ষায় প্রিয়ার খোপায় উঠবে বলে,
বড় দানো কাছিমের দল যেখানে রোদ্র পোহায় -
যাবার আগে রেখে যায় বংশধরদের,
বড় বড় ডানা ঝাপটিয়ে এখানে খেলায় মেতে আছে 
পরবাসী নির্ভিক পাখির দল,
আমি সেই বেলাভূমে পরে আছি চন্দ্র-পাগল হয়ে,
জোছনা লোকে ভেসে যাচ্ছে এখন চারদিক,
মাতাল করা কেয়া ফুলের গন্ধে
ঝিম ধরে গেছে প্রকৃতিতে,
ভীষণ জোছনায় একসময় তার উত্সও অদৃশ্য হয় -
দিগন্তহীন সমুদ্রও এ সময় হয়ে ওঠে একদম শান্ত -
মৃদু মন্দ হাওয়া কেয়া ঝারকে বলে- চুপ কর !
এখানে রচিত হবে একটি ভালবাসার গল্প। 
                       (২০/০৩/২০০৪)

এখনো স্বপ্ন 

ঝমঝম বৃষ্টিতে বসে আছি আমরা দুজন 
তোমার নরম কালো চুল বেয়ে ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি 
আমি যে কী ভীষণ ভালবাসায় ধরে আছি তোমার হাত। 

আমরা বসে আছি টসটসে সবুজ ঘাস বাগানে 
থোকা থোকা বন্য নীলচে না জানা পুষ্প মাঝে 
কি যে ভীষণ ইচ্ছে করছে তোমার ঠোটে ঠোট রাখতে। 

এতো সুন্দর এতো আনন্দ এতো শুদ্ধতা তোমার সান্নিধ্যে 
প্রিয়া মোর আমার কাধে মাথা দিয়ে আবেশিত বৃষ্টি স্নানে 
সব বাধা ভুলে গিয়ে জড়িয়ে ধরি তোমায় মহাশক্তিতে। 

এখন মূল্যহীন হলো নিমিষেই সব সুরার পাত্র 
সমাজ সংসার বোধ বুদ্ধি যুক্তি হঠাতই অপ্রয়োজনীয় হলো 
এখন স্রষ্টাও সবকাজ স্তব্ধ করে মুক্তি দিলো দুই মানব মানবীকে । 

এই দুই মানব - মানবী এখন হাটছে 'ডাল' হ্রদের তীর থেকে 
তীর  জুড়ে গহীন হয়ে বেড়ে উঠেছে পাইন, বার্চ আর সিডারের বন 
নিঃস্তব্ধতার মাঝেই মুক্তি পাবে প্রেম, যেখানে বন আরো বেশি দুর্গম হবে। 
                                         (১৭/০৫/২০০৪)
শেষ সংলাপ 

'শোনো, তোমার ওই অক্ষি পল্লব আমার 
                               শুধু ই আমার। '
-'বললেই হলো, তোমায় দিতে আমার 
                              বয়েই গেছে। '
"ওই পাপড়ি কোলে একটি চুম্বনের বিনিময়ে 
                            কি চাও তুমি ?
সহস্র রাত্রি তোমায় নিয়ে গাইবো আমি 
শত সন্ধা তোমার কেশে মুখ গুজে থাকব 
প্রয়োজনে লড়বো আমি 
                         প্রাচীণ ডেনিশ সম্রাটের মতন 
তোমাকে বানাবো সম্রাগ্গী। 
আরো চাও তো ,
যাব আমাজানের গহিনে 
কিংবা আল্পসের চূড়ান্ত শিখরে। 
মাছরাঙআ চাও কি?
কিংবা প্রাচীন বুড়ো কচ্ছপ - 
সব আমি নিয়ে আসব শুধু তোমার জন্য। "

- "কে বলেছে  দিতে ওসব 
দুটো আখিই তোমায় দিলেম 
চাইনিতো আমি অন্য কিছু 
তোমার ভালোবাসায়। "
              (২৭/০৪/১৯৯৯) 
    প্রেম উপাসনা

মেঠো লাল ঢালু পথের শেষে
থোকা থোকা  নীলচে ফুল ঘাসপাতার ফাঁকে
অবাক আয়ত নয়ন মেলে চেয়ে থাকে -
এভাবেই অনন্তকাল কেটে যায়
ধ্রুবতা হারায় ধ্রুবতারাও
তবু  কালতো ফুরোয় না সুরাসিক্ত মাতালের
সেযে কিউপিডের ছোড়া তীরে ভীষণ আহত।

মধ্য দুপুরে মাছরাঙআ একমনে তাকিয়ে দীঘির জলে
ভাবে - "এতরূপ আমায় কেনো দিলে গো প্রভূ ?
যদি ঐ জোছনা পাগল কবি, মোর ঠোটে নাইবা রাখে ঠোট
তবে কৃষ্ণ কালো রজনীর তরে যেন বলি হই আমি।"

এভাবেই এক কবি মহা প্রভু ভুলে
উপাসনা করে যায় সারাটি জীবন -
যদি একটি বারেও ঐ চুম্বন-সুরা, আলিঙ্গন করে।

তারা দুজনেই দুজনার কাছে ঈশ্বর
কিন্তু মহাশক্তিধর ! সেতো একজনই হয়
তাই মিলন হলনা তাদের কখনো।
               (১৪/০৪/২০০৪)