Translate

Saturday, June 7, 2014

নৈবদ্য 

পদ্মকলি পুজোয় দিয়ে বলি 
লিখে নিও ছোট্ট গল্পখানি 
সেদিন তাহার স্পর্শে চমকে উঠি 
নদীর জলে মিলিয়ে গেছি আমি। 

বুনো ফুলের মদির গন্ধ মাখি 
শুভ্র আঁখির মায়া কোথায় রাখি 
সেদিন তাহার ওষ্ঠে বাঁকা হাসি 
নদীর জলে মিলিয়ে গেছি আমি। 

মরা গাঙে ভাসছে আজো তরী 
যদি কখন ভরা স্রোতে ভাসি 
সেদিন তাহার গন্ধে জেগে উঠি
নদীর জলে মিলিয়ে গেছি আমি। 

বাঁশ ফুলের টোপর মাথায় পরি 
রাঁধা ঝুমকোয় সাজিয়ে তোমায় রাখি 
সেদিন তাহার চুম্বনেতে জাগি 
নদীর জলে মিলিয়ে গেছি আমি।  

Monday, April 14, 2014

অর্ঘ্য 

তোমার হৃদয় থেকে নক্ষত্র ঝরে গেলে 
লিলির ঘ্রাণের ঘোর কেটে যায় বাশ বন পাহাড়ে 
এখনো কি মনে পড়ে আগুন লাগা সুরে 
নদীর জল ধুয়ে ছিলো তোমারে আমারে। 

সমুদ্রবাসিনি সঙ্গি আমার 
গাড় বেগুনী মেঘ দিয়ে সাজিয়েছিলেম তোমায় 
আমার রূপকথার রাজকন্যা -
আর কত অর্ঘ্য দিলে পরে 
ঘুম ভাঙ্গবে তোমার ? 
 
ঘাসফুলের কাব্য 

ঘাসফুলের কাব্য শেষ হয় না 
ঝমঝম বৃষ্টির তোরে সিক্ত হয়েছে মাটি 
বহুদিন পর আবারো সোদা ঘ্রাণে বিশ্বচরাচর 
ঝুমুর নৃত্যে উন্মাদ হয়ে গেছে,
কচি ঘাসের ডগা চিরে তাই বেরিয়ে এসেছে 
জাম রঙা ফুলের ঝুরি। 
ঝরঝর করে ঝরছে মেঘের কনা 
মরমর করে ভাঙছে মনের বাঁধ 
ঘন কালো আঁধারে চাবুক মারছে 
শুভ্র বজ্রনাদ। 
এমন দিনেই মিছে হয়ে যায় সব 
শেষ বাঁধনও যদি টুটে যায় তবে যাক 
সমুদ্র আজ আকাশ ছুতে চায় 
আকাশও তাই ছুয়ে যায় তার গায়
বাতাস এখন মাতাল হয়েছে মহুয়া রসে 
প্রিয়ার হাতে হাত রেখেছি মরণ সুখে।  

Sunday, March 23, 2014

বিষণ্ণতা 

তাল কেটে গেছে আমার 
অষ্ট প্রহরের মিনতি-
বৃথায় গেছে।
জোছনালোকের অমরাবতী মিথ্যে হয়ে 
সরে গেছে 
বহু দূরে।
মাঝরাত্রির ডাহুক হয়ে নিঃসঙ্গ বৃক্ষচারি
অবাক আমি,
নতুন করে স্বপ্ন দেখার আর্শিটা আজ 
ভেঙ্গে গেছে 
শত টুকরে।
রঙ্গনের রক্তিমতা আমার নয় অমবস্যায়
মিলিয়ে গেছে সব কোজাগরে 
টুকরো হয়ে,
শঙ্খচিল তুমি কোথায় গেলে 
কোথায় আছ আমায় ফেলে 
আমি আজ থাকছি বড় একলা হয়ে 
বদ্ধ ঘরের মরণ অন্ধকারে।
আত্মাহুতি 

 আমার ভেলা সাঁতরেছিলো আকাশ গঙ্গারামে 
সেথায় জল ছিল না, সুর ছিল না, একলা ছিলেম ভুলে,
নষ্ট পংতি বুনে বুনে কাব্য লিখছিলেম 
কাব্য আমার হারিয়ে যাচ্ছে আমি দেখছিলেম,
নীল মাছরাঙ্গা আর শিস তোলে না নিঝুম দীঘির জলে
হারিয়ে গেছে পদ্মকুড়ি কচুরীদামের ভীড়ে,
অন্ধরাজের মন্দ দেশে মাদল টুটল যদি 
আমি নিজেই তবে শাবল হাতে ধসাবো আমার ছবি। 
ধ্বংস যদি হবেই তবে আমার হাতেই হোক 
আমার কাব্যে আমার স্বপ্নে আত্মাহুতির শোক।

Wednesday, February 12, 2014

কথোপকথন: অশ্রু 

"কেসেন্দ্রা, কেমন আছ ?
কাঁচের শিশিতে জমিয়ে রাখা তোমার অশ্রু 
শুকিয়ে গেছে কবেই 
মাথা থেকে একটি চুল তুলে হাতে দিয়ে বলেছিলে 
রেখে দিয়ো -
আছে এখনো,
তুমি এখন আছ  কেমন ?
দশটি বছর পেড়িয়ে গেল কেমন করে 
আমায় ছাড়া থাকতে তোমার কেমন লাগে?"

"নীলাম্বর, এখনো রাত জাগো?
কার কাছে যেন শুনলাম -
কয়েকটি পাকা চুল খুব বোঝা যায় তোমার,
এখনো কি সপ্তর্ষিতে আমায় আঁকছ 
সপ্তর্ষি যে তোমার বড় প্রিয় ছিল,
আমার আঙুলে আঙুল জড়াতে 
এখনো কি ইচ্ছে করে ?
আমার কিন্তু আজো করে। "

১২/০২/১৪, বিকেল


বিচ্ছেদ

বিচ্ছেদ তোমায়  করছি আমি প্রণাম
তোমার জন্যই আবার কবি হলাম

পরব্রহ্ম নই তো আমি জানি
লীলাবতী শূণ্য আমার জীবন,
সেঁজুতিতে আঁধার কাটেনি
নওরোজ ভোরে কোথায় প্রিয়া এখন ?

বিচ্ছেদ তোমায়  করছি আমি প্রণাম
তোমার জন্যই আবার কবি হলাম

ময়ূরাক্ষী প্রিয়া মোর, ওই চোখে তাকাসনে
চোখের দৃষ্টিতে, আমায় আর পোড়াসনে ,
কবিতার পান্ডুলিপি ছিড়ে আমার হৃদয়ে আজ
বিচ্ছেদে সব সুখ ঘাস হয়ে যায়

বিচ্ছেদ তোমায়  করছি আমি প্রণাম
তোমার স্পর্শেই আবার কবি হলাম

আমার নীলাভ প্রেম রঙহীন ওপেলে
রং হয়ে খেলা করে সিক্ত চুম্বনে
কতবার মেঘ থেকে কাশফুল বনে
তবু আমার ছোঁয়াই পাবে কোনো একাকিনী রাতে

বিচ্ছেদ তোমায়  করছি আমি প্রণাম
শুধু তোমার স্পর্শেই আবার কবি হলাম

২৪/১২/১৩ (রাত্রি), //১৪ (রাত্রি)