Translate

Tuesday, December 17, 2013

এখনো স্বপ্ন - ২

"নীলাম্বর, আমার জন্যে একটি পুরো দিন দিতে পারো ?
যাবে আমায় নিয়ে তোমার নীল পদ্মের বিলে 
কুয়াশার ভোরে, গায়ে শালের ওমে তোমার পাশে আমায় নিয়ে। 
তোমাদের ঘাসফুল, কাঁচপোকা, হালকা সবুজ চালতা ঘ্রাণের থেকে 
চলে যাচ্ছি যে আমি আজ বহুদূর সাগর পারে।"

নির্নিমেষে নীলাম্বর চেয়ে রয়, সুর ঝরে পড়ে, নক্ষত্র আরো নীল হয়
নীলাম্বরের দৃষ্টি বাঁধা পড়ে রয়, এত সুন্দর আঁখি হয়, ময়ুরাক্ষি -
"মাত্র একটি দিন চাইছ আমার কাছে ?
আমিতো নীল চিল, সাদা বক, অশথ্বের ডালে ডালে জন্মান্তরে তোমার অপেক্ষায় 
একটিবার চেয়ে দেখো, অবশিষ্ট জীবন আমি বেগুনী পেঁয়াজ ফুল হয়ে তোমার খোপায়।"

পৌষের খুব ভোরে আজ শুভ্র কুয়াশা, এখনো ঘুমুচ্ছে শহর 
শিশিরে ভেজা শালিকের চেয়েও আরো উন্মুখ হয়ে আমি সূর্য অপেক্ষায় 
আজ যে তোমায় নিয়ে যাচ্ছি আমি, উড়ছি আমি, হাসছি আমি, গাইছে আমার হৃদয় 
তুমি আসছ কখন ? ঝি ঝি  পোকার ডাক থেমে গেছে, ফিঙেরা বেড়িয়ে এসেছে ডেরা ছেড়ে 
লিলিফুলের ঘ্রাণ কখনো পৌছেনা এ শহরে, মৃত নগরী থেকে ঝিরঝিরে কাশফুল বনে 
আমরা আজ চলেছি আকাশ ছুঁতে, হৃদয় কাঁপছে, ভীষণ ব্যাথার অবাক সুখে, ময়ুরাক্ষি আসছে এদিকটাতে।

১৬/১২/১৩, ১১:৪০ রাত্রি

Wednesday, November 20, 2013

তোমায় নিয়ে যাচ্ছি বহুদূরে

হলদে পাখি কোথায় ছিলে এতদিন ?
ঘুম দুপুরে নাগলিঙ্গম ফুলের রেনু গায়ে 
কাঠালিচাপার মাতাল করা গন্ধে 
একটু বসে যাবে?
তোমায় আমি রাধাঝুমকোর হার পরাব 
অষ্টপ্রহর নিয়ে বেড়াব নীল শাপলার বিলে 
তুমি যাবে আমার সাথে?
হলদে পাখি -
নক্ষত্র বিছানো আকাশের পারে 
হাসনুহেনার মদীর গন্ধ গায়ে মেখে 
ঘন বনে ছাওয়া পাহাড়ে, বাশ ফুলের খোঁজে
যাবে? 
আমিতো অনন্তকাল তোমার অপেক্ষায় -
সপ্তর্ষি হারিয়ে গেলো 
হীম শীতে কুকড়ে আছি আমি 
হলদে পাখি -
বুঝতে পারছনা তুমি।


ক্লান্ত কবি 

তুমি আমার প্রথম সর্বনাশ 
শেষ বেলাতে আমি যখন ভীষণ ক্লান্ত 
তুমি আমার আবার সর্বনাশ।

অহংকারী অংশুমালী তুমি 
সেটাও তোমায় মানায় ভালো 
তোমার ওই রূপের ডালি  
কোথায় রাখি বল ?
প্রেমিক যখন ভাবছে বসে 
সব পেয়েছি আমি -
ঠিক তখনি শেষ বেলাতে 
আবার এলে তুমি। 

প্রভু ! মুক্তি কোথায় বলো ?
সুরার পাত্রে প্রিয়ার ছায়া 
কোথায় তোমায় পাব ?
আজ শেষ বেলাতে মৃত্যু আমায় ডাকে,
তোমার স্পর্শ বিনা 
যাচ্ছি কেমন করে?

তোমার হাত দুখানি আমার হাতে 
তোমার চোখে আমার চোখে অনন্তকাল।
শেষ বেলাতে আমি যখন ভিষণ ক্লান্ত 
প্রিয়া, তোমার দেখা কি আর পাবোনা?

Monday, November 18, 2013

আবারো লিলিথ ঈশ্বরচ্যুত করেছে আমায় -২

জীবনানন্দের দিব্যি আমার প্রিয়া 
ফিরিয়ে নিয়ো না চোখ 
ঐ চোখে চোখ রেখে মিটেছে 
              অনন্তের পিয়াসা। 

তোমার চোখে দেখেছি আমি 
লিলিথের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা 
তোমার চোখে জ্বলে পুড়েছে 
কত কেসানোভা, কত অযোধ্যা। 

স্রষ্টার অভিশাপের বোঝায় 
ন্যুজ আমি শয়তান 
তবু লিলিথের চোখেই আমি 
পেয়েছি আমার গান। 

বলেছি, আঁখি মিলনে নেশাগ্রস্ত হয়ে 
আমায় যেও না ছেড়ে। 
ধরেছি তোমার হাত 
মথিত শরীরে এভাবেই 
অনন্তকাল চলে যাক। 
        (১৬.১১.১৩; ১১:৫৫ রাত্রি) 


Sunday, November 17, 2013

আবারো লিলিথ ঈশ্বরচ্যুত করেছে আমায় - ১


বারে বারে এসেছি এখানে ডন জুয়ান হয়ে 
শেষ সূর্য রশ্মিকে বাজি ধরে 
বারে বারে তোমার চোখে চোখ রাখতে গিয়ে 
তবুও লিলিথ তুমি, আবার এসেছ ফিরে।

আমায় নিয়ে খেলেছ, শত শতাব্দী ধরে 
তবুও তোমায়, হারাতে চাইনি ভুলে 
তোমার চোখে চোখ রাখতে গিয়ে 
আমিই কেসানোভা তুমিই লিলিথ 
ঈশ্বরচ্যুত হয়ে। 

লিলিথ লাস্যময়ী সর্বনাশা 
চোখের সাথে চোখ পড়েছে বাঁধা 
আগুনে জ্বলছে ডন জুয়ানের বুক 
তবুও লিলিথ তোমায় পেয়েই পাচ্ছি আমি সুখ। 

ইবলিশ তনয়া লিলিথ 
চোখের গভীরে একসমুদ্র সিডাকশান
কখনো কেসানোভা কখনো ডন জুয়ান
অনন্তের অভিশাপ নিয়ে ঘর বেঁধেছি আমরা। 

ভুলে যেও না আমিই ডন জুয়ান
আমার প্রেম জ্বালিয়ে দিয়েছে 
কত লিলিথের প্রাণ 
তবুও আমিই ডন জুয়ান 
রঙ্গ লীলার শেষ অঙ্কে তাই 
শুধু লিলিথের ঘ্রাণ। 
          (১৬.১১.১৩, ১১:৪৫ রাত্রি)
 

Tuesday, November 12, 2013

শুকনো কাদার পরী 

দুষ্ট পাখি, কষ্ট পাখি আমার 
ছোট্ট পাখি, নষ্ট পাখি আমার 
সারাটি ক্ষন ভাবছি তোমায় 
স্বপ্নে আমার সঙ্গিনী 
জানতে যদি -
কতটা তুমি আমার?

শত স্পর্শে একটা ছোঁয়া তোমার 
পুড়িয়ে দিচ্ছে আমার হৃদয় 
ভীষণ কষ্ট অবাক সুখে 
ভায়োলীনতো যাচ্ছে বেজে। 

হঠাত এমন হয় 
সমাজ সংসার তুচ্ছ হয়ে 
চৌরাসিয়ার বাশি বেজে 
তোমার সঙ্গে সঙ্গপনে 
বাসর সজ্জা হয়। 

দুষ্ট পাখি আমার 
ছোট্ট পরী আমার 
তোমায় যে বলাই হইনি কিছু 
তোমার চোখে চোখ রেখে খুব 
বলতে ইচ্ছে করে
তুমি শুধুই আমার।

নদীর জলে খুঁজে ফিরছি তোমায় 
শুকনো কাদায় মূর্তি গড়ি তোমার 
আমার কাব্য পড়ছ না?
আমার গন্ধ পাচ্ছ না?
তবু ছোট্ট পাখি আমার 
ভালবাসছি তোমায়। 

গুনগুনিয়ে গাইছ তুমি 
হাসছ তুমি সারাটি ক্ষন 
সামনে বসে আমার 
পুড়ছি আমি জানতে যদি?
সকল শিকল ছিন্ন করে 
সঙ্গি হতে আমার।

Saturday, November 9, 2013

বোহেমিয়ান স্বপ্ন 

আমি এখনো স্বপ্ন দেখতে পারি -
আমি এখনো তোমায় আঁকতে জানি,
আমি এখনো শিস দিয়ে উঠি আনন্দে 
আমি এখনো জন্মান্তরে শুধু তোমার জন্যে। 

আমি এখনো অভিশাপ আর ধ্বংস 
আমি এখনো সৃষ্টি আমার , চুরমার করি অহরনিশ। 
আমি এখনো মাতাল নেশাগ্রস্ত -
আমি এখনো মহুয়া রসে সুরাসিক্ত।

আমি এখনো গান গাই -
                   গান গাই সারা রাত ,
আমি এখনো এলোমেলো পায়ে 
                  ছুটে চলি নির্বাক। 

আমি এখনো পুশকিনের নীলাভ গান
আমি এখনো ঘন ঘাসে ভরা স্তেপের রাজ্যে 
                   পথহারা বোহেমিয়ান । 

আমি এখনো আমাজন লিলি বুকে নিয়ে বলি -
                  এত রূপ তুই কোথায় পেলি,
আমি এখনো যে মধ্য রাতের উন্মাদ কবি 
আমি এখনো যে তোমায় ভীষণ ভালোবাসি।
 
                  

অমরত্ব 

কতটা ভাগ্য নিয়ে জন্মালে পরে 
প্রিয়ার হাত দুখানি আমার হাতে,
প্রিয়ার রেশমগোছা কৃষ্ণ কেশে 
আমার ক্ষুধার্ত দীর্ঘশ্বাস পড়ে। 

কতটা স্বপ্ন দেখতে জানলে পরে 
একদিন বৃষ্টি ভেজা আঁধার রাতে -
প্রিয়ার ভেজা ওষ্ঠ যুগল, আমায় সিক্ত করে 
প্রিয়ার তপ্ত স্পর্শ - আমায়, পূর্ণ করে তোলে। 

কতটা নির্ঘুম রাত অর্ঘ্য দিলে পরে 
সত্য প্রেমের মাঝে পূর্ণতা আসে -
প্রেমিকের ভীষণ কঠিন আলিঙ্গনে,
তার প্রিয়া বাঁধা পরে অনন্তের তরে।

Thursday, November 7, 2013

একরাশ অন্ধকার 

তুমি এসেছিলে আমার বক্ষ জুড়ে 
দুলেছিলে আমায় নিয়ে দুবলা বনে 
দেখেছিলে প্রণয় ঝড়ের নির্জনতা 
বলেছিলে টোপাপানার বোবা কথা। 
আমি বুঝতে পারিনি 
         তাই হারতেও চাইনি,
আমি কল্পতরুর মালা গাঁথি 
স্বপ্ন - গল্প একাকার করে,
হৃদয় নিয়ে খেলা করি 
আমার ব্যথা তোমার ব্যথা,
দুখের পিঠে সুখকে গড়ি - মূর্তি গড়ি। 
অবাক হলাম, নষ্ট হলাম 
পুরুষ মানুষ, তবুও আমি নষ্ট হলাম 
ধরতে গিয়ে প্রবল ঝড়ে তোমার ছায়া 
পাইনি  ছুঁতে - তাইতো আমি একলা চলি। 
অবেলায় সূর্যটা যায় ডুবে 
          প্রায়ই এমন হয় 
শুধু আমার বেলায়, অন্য কারো নয়। 
আমি হারতেও চাইনা 
আবার জিততেও পারিনা 
তাই সংগ্রাম করি না - আর সবার মতন। 
রাতের শেষটা আমার 
শুরুটা দিয়েছি কবেই,
ঝুমকো ফুলের রেনু মেখে 
তোমায় আলতো ছুঁয়েই।
তারপরও বয়ে যায় সব নদী 
যতদিন গাড় পলি পড়ে নালা হয়ে যায় 
তারপরও ঝড় আসে, অঝোরে ঝরে বৃষ্টি 
আবির রঙে রাঙা হয় ভোর,
সব থাকে, এমনকি বিলুপ্ত নীলপদ্মও
শুধু নেই হয়ে গেছি আমি 
           তোমার বিয়োগ তিথিতে। 
                        (৯/১১/২০০০)

বিষন্নতা 

তাল কেটে গেছে আমার 
      অষ্টপ্রহরের মিনতি -
বৃথায় গেছে। 
      জোছনালোকের অমরাবতী মিথ্যে হয়ে 
সরে গেছে,
বহুদূরে।
মাঝরাত্রির ডাহুক হয়ে নিঃসঙ্গ বৃক্ষচারী 
       অবাক আমি,
নতুন করে স্বপ্ন দেখার আর্শিটা আজ 
      ভেঙ্গে গেছে, 
শত টুকরে।
রঙ্গনের রক্তিমতা আমার নয় 
     রক্তিমতা মিলিয়ে গেছে কোজাগরে,
টুকরো হয়ে,
শঙ্খচিল তুমি কোথায় গেলে 
কোথায় গেলে আমায় ফেলে,
আমিতো থাকছি কেমন 
একলা হয়ে 
বদ্ধ ঘরে। 
শ্যামারা দুবলা বনে গান শুনিয়ে 
আমায় ডাকে,
আমিতো শ্যাওলা দীঘির -
বদ্ধ জলাশয়ে,
আমি আসব কেমন করে ?
শেষ কাব্য - ৩

কবির হৃদয় কাঁপে তবু হাত থামে না 
কবি - ওই কাব্য আর লিখনা। 

শীতল তনুতে স্পর্শ পাবার আশায় 
ওই নারী পথ চেয়ে আছে বৃথায় ,
খোপায় জড়িয়েছে দোলনচাপার ঝাড় 
দেহ জড়িয়ে রেখেছে তার নীল শাড়ি নীল পাড়। 
না কবি আর নয় তার পানে পদযুগল 
আর নয় কাব্যমালায় তার কথন। 
এখন নিশ্চিত মধ্যরাত, নরম জোছনা 
সরু গলি, বড় রাস্তা ছেড়ে বেশ ভেতরে 
কবি একা হাঁটে, নিরবে 
আঁধারে খোঁজে কার কায়া যাকে যায়না ছোঁয়া। 

কাব্যে আর পাবেনা তুমি বিথিকাবনের রাজকন্যাকে
রাজকন্যাযে হারিয়ে গেছে -
হারিয়ে গেছে ঘন স্তেপের আড়ালে,
যাবেকি খুঁজতে তাকে বহু দূরের ঘন বনে 
পাবে কি লক্ষ তারার মাঝ থেকে প্রেয়সীকে 
কেসেন্দ্রা রূপে বসে আছে 
মরণ চুম্বনের অপেক্ষায়। 
             (২৫/১০/২০০১)
শেষ কাব্য - ২

মনের মাঝে করুন সুরে ডাকছ তুমি কে?
বলতো খুন হয়ে যাই তোমার মধু পিয়ে। 
তুমি কি জানো, হাসলে তুমি ছুরি বিঁধে আমার বুকে 
ঝনঝনিয়ে ওঠে আমার শরীরটা এক অবাক সুখে। 
আমি যে আজব মানুষ স্পর্শ হীন তোমার কাছে 
তুমি কি জানো আমার ইচ্ছে করে তোমায় ছুঁতে। 
হয়ত আমি লম্পট, তবু সেতো শুধু তোমার কাছে 
চাও যদি তো হব আমি মুনি ঋষি তোমার তরে। 
আমি আজ হারিয়ে গেছি কঠিন নেশায় তোমায় চেখে 
নাইবা এলে রেখে গেলাম কাব্য মালা তোমার তরে।
                               (অক্টোবর, ২০০১)
শেষ কাব্য - ১

প্রিয়া , আমি আজ কেমন করে তোমায় স্পর্শ করি 
কোন মাটিতে গড়ি তোমার অমন রূপের মূর্তি 
সব মাটিতো ধুয়ে গেছে নদীর জলে। 

কালি শুকিয়ে আঁকবো 
অতবড় কবি নই যে আমি,
কিন্তু আমার হৃদয় কাঁপে, শরীর কাঁপে 
অথচ হাতখানি যে থেমে আছে 
সে কথা আজ কেমন করে বলি। 

তুমি তো তেমন নও যে হারিয়ে যাবে 
তুমি যে অষ্টপ্রহর হাসছ আমায় দেখে 
জানতে যদি - 
তুমি কলমিফুলের করুণ আভা আমার কাছে 
পারছিনা যে ছুঁতে। 

আমি যে নিজেই একটা শুকনো নদী 
আমার তরী বাইবো বলো কেমন করে 
তুমি তাই দূরেই থাকবে, দূরেই থাকো,
আমি ছাই বাসব ভালো একলা মনে 
নিজের ঘরে নিজের সুরে আমার কলম দিয়ে।  
                          (অক্টোবর, ২০০১)

Friday, November 1, 2013

 মাতাল কাব্য 

ওগো  তোমার ওষ্ঠ- শরাব পিয়ে 
মাতাল কবি আমি 
পূর্নিমাতে স্নানোত্সবে গাইবে এখন তুমি।

স্বপ্ন তো নয় - দিব্যি আমি দন্ডায়মান 
সূচাগ্র শিখর গলে আসছে মায়া - বিষের ভান্ড। 

প্রিয়াগো তোমার ওষ্ঠে প্রজাপতি 
শাপলা কুঁড়ি ; তাকিয়ে আছ মেঘ্সমুদ্রে 
ঐ দেবতার সাধ্যি কি - ঝমঝমিয়ে ঝরায় বারি। 

দেবতারা দিচ্ছে আমায় অভিশাপ 
তবুও তোমায় ছুইব আমি, গাইব আমি 
ওষ্ঠে তোমার আঁকব আমি চিত্রকলা 
তোমার মাঝে বিলীন হবো সারাবেলা। 

খৈয়াম, সাকী আগলে রুবাইয়াতে 
হাফিজও ছাড়তে নারাজ তার প্রিয়াকে 
আমার প্রিয়া শুধুই থাকবে আমার মাঝে।  

Thursday, October 31, 2013

দেবী, প্রেম ও কবি 

কি চাই জানো না !
তোমার বুকে মুখ গুজে থাকি, 
                        পার হয়ে যাক না 
                         এভাবেই এ জীবনটা -
...বুক ভরে ঘ্রাণ নেই ঐ কেশগুচ্ছে। 

রাজকণ্যা তুমি কেসেন্দ্রা !
একদিন সত্যি বলছি আমি 
ঐ ওষ্ঠে দেব মরণ চুম্বন 
                তারপর তখন থেকে 
                থাকবেনা আর সবার -
                প্রেমের দেবী হয়ে - 
অনন্তকাল তুমি শুধুই থাকবে আমার কোলে। 

দেবী হয়ে ছিলে বহুদিন ধরে !
নিজ প্রেমে মগ্ন প্রভু একদিন 
বানালো এক মানবকে প্রেমের কবি করে,
                       কবি প্রেমেও কি দেবী - 
                       হয়ে ওঠে কখনো মানবী ,
তবে দেবীত্ব বিসর্জনে মানবী হয়ে এসো 
 দেখবে কত ভালোবাসি তোমারে।  
বিষাদ বিধুর বেলা

তোমায়  নিয়ে আমার সব কষ্টগুলো
জমে আছে বুনো ঘন ঘাসপাতার ফাঁকে
গাড় বেগুনী ফুলের মাঝে -
ভোরের শিশির হয়ে।

আজ সকাল থেকেই ভীষণ বৃষ্টি
ভীষণ ঝড়ো হাওয়া
বৃষ্টি জলে যাচ্ছে ধুয়ে
বিষাদ বিধুর বেলা।

বিষাদকেই বেসেছি ভালো
বিষাদ মাঝেই খুঁজি আমি অহরহ -
তোমার মুখের ছায়া,
তোমায় নিয়ে আমার স্বপ্ন -
তোমার স্পর্শে ভরা।
অপেক্ষা 

 আমার মরণ আসবে মধ্য রাতে 
একলা ঘরে,
মরা চাঁদের সায়াহ্নেতে 
ঘোলা জলের পাত্র হাতে 
একলা ঘরে - মধ্য রাতে। 

বুকের মাঝে এক দলামলা কষ্ট নিয়ে 
কান্না নিয়ে , দুঃখ নিয়ে 
সব হারাবার ব্যথা নিয়ে 
মরণ আসবে, আমার ঘরে হঠাত করে।  
আমার সঙ্গীরা সব হারিয়ে যাবে 
অনেক আগেই,
আমার ভালবাসার মানুষটাতো 
হারিয়ে গেছে বহু আগেই 
আমার সপ্নেরা সব সন্ধে রাতে 
আমায় ছেড়ে ঘর বেঁধেছে বহুদূরে,
আমি তাই একলা ঘরে 
মরণ বাসর বাঁধব বলে অপেক্ষাতে।  

Thursday, October 24, 2013

অমিমাংসিত ভালোবাসা 

সেই পুষ্প,
যে আমায় ভালোবেসেই গেলো 
সারাটি জীবন স্বপ্ন নিয়ে -
আমি তারে ছুঁইনি কভু ভুলে
তবুও ভালবাসার স্বর্গসুধা বিলিয়ে গেলো মোরে। 

আমিতো পাষান ছিলাম এই জীবনে 

সেই পাষাণে আজলা ভরে পুজো দিলে 
দেবী হবার লোভে। 

সেই পুষ্প,
কুন্তলিত কেশে যার মায়াবতী 
গন্ডদেশের রক্তিমতা আমার দেখা 
ভরা জোছনায় মাতাল হয়ে ,
ভুল সময়ে বলতে আমায় 'ভালোবাসি' - 

সেই পুষ্প,
এমন করে পাষাণ কেনো চাঁছতে গেলে ?
দেবতার সর্বগ্রাসী ক্ষুধাটাযে  অন্য গ্রহে
কার্ল মার্কসের সূত্রটাকে মাথায় ধরে 
দেবতা পালিয়ে ছিল বহুদূরে। 
হাতেতে কোদাল কাঁচি 
মনেতে সমাজতন্ত্র 
ভালোবাসার আকাশটাজে বহুদূরে, অচিন দেশে। 

পুষ্প ময়ূর হয়ে আমার ঘরে 
পেখম মেলে দিয়ে 
এসেছিল বাসতে ভালো ছেঁড়া হৃদয়টাকে। 
             (১২/০৮/২০০০)

 

রূপবতী 

শূন্যকে শূন্য দিয়ে গুণ করে চলেছি 
আকাশের নীলকে আকাশের নীল দিয়ে 
খাঁড়া খাদে পর্বত ধরে একেবেকে। 

কাঞ্চন্জন্ঘাকে ছুবো বলে 

আমি চলেছি
সবার মাঝে একাকি 
নিঃসঙ্গ ইয়াকের বেশে। 

ভোতা অনুভূতি খোঁচা খেয়েছে আবার 
ঝিরঝিরে তুষারের মত ছড়িয়ে গেল 
হিমালয়ের সুউচ্চ শিখরে। 

ঝড়, স্বপ্ন, বন্য নাম না জানা অদ্ভূত ফুল 
গান, বৃষ্টি, নদী 
এবং শুধুই মানবী।

মানবী না প্রকৃতি 
বাদ দিলে ছেড়ে যায় সুন্দর 
মানবীরে ছাড়া কাঞ্চন্জন্ঘা 
সাহারাতে রয়ে যায় একাকী।


 
যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে সিমলায় 

লাল নীল বেগুনি হলুদ 
কত শত রঙের খেলা 
বন্য ফুলের গালিচায়
বিছিয়ে আছি আমরা।

তেড়ে ফুড়ে সোজা উচুঁতে 
ঝিরঝিরে পাইনের গান 
মেঘের কাছে 
নিয়ে যাচ্ছে তোমার চুলের ঘ্রাণ 
রেখে যাচ্ছে মেরুন সুরের লহরী। 
ঝুমুরে নিক্কন সিমলার বন্ধন 
আলোয়ানে জড়িয়েছে 
তোমারে আমারে।

মেঘ্কনা শুঁকে যায় শরীরে 
ভিজে যায় মন
প্রিয়ার আমন্ত্রনের ভাষায়। 

তারপর আবার আঁকাবাঁকা পথ ধরে 
অনেক উঁচুতে -
যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে আমাদের।
 
ঘনবনে একদিন 

আল ধরে হেঁটে যাই 
শুকনো পাদুটো ছড়িয়ে
রগগুলো ভেসে আছে 
             কালো শুকনো চামড়া গিলে।

ফেকাশে জমাট কাদা 
নোখের আকৃতিতে এনেছে বিবর্তন; 
উঠে আসি যখন 
দোলন চাঁপার বনে 
মদির সুবাসে নেশা ধরে যায়, 
আঁজলা ভরে তুলে নেই 
           মজানো শিশিরের গন্ধ। 

আকাশ ভেসে যাচ্ছে রবিরশ্মিতে 
প্রবল প্রতাপে ডানা মেলে সাদা বক 
শুভ্র মেঘের খোঁজে 
           গাড় নীল গগনে ,
প্রেত পুরীর মায়া হয়ে 
বহু পুরনো হিজল বৃক্ষ 
জরাজরী করে আছে 
জটাধারী সন্নাসীর বেশে 
অনেকদিন ধরে। 

আমি এগুই আরো সামনে 
মানুষের কাছ থেকে আরো দূরে 
কূলকূল আঁকাবাঁকা খরস্রোতা 
উন্মুক্ত মোটা প্যাচানো শুরের মতন শিকড়কে 
                      ছুঁয়ে যায় ,
হেলে আছে গাছগুলো 
সরু নদীর ওপর আপন মনে ,
তারপর শুরু হলো গহীন বন 
প্রাচীন বৃক্ষ জড়াজড়ি করে !
ঘাশেভরা আর পুষ্পরেনুতে মেখে গায় 
স্বপ্নে পেয়েছে তায়। 

এগুই আরো সামনে -
যেখানে মানুষের সব কষ্টগুলো 
ধুয়ে মুছে যায় 
রেখে যায় শুধু 
আমাদের ভালোবাসার গল্প।



বিষাদ বিধুর বেলা 

তোমাকে নিয়ে আমার সব কষ্টগুলো 
জমে আছে বুনো ঘন ঘাসপাতার ফাঁকে 
গাড় ঝুমকো ফুলের মাঝে - 
জমাট শিশির হয়ে। 

আজ সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি 
দারুন ঝড়ো হাওয়া 
বৃষ্টিজলে যাচ্ছে ধুয়ে -
বিষাদ বিধুর বেলা। 

বিশাদকেই তো বেসেছি ভালো 
বিষাদ মাঝেই খুঁজি অহরহ - 
তোমার মুখের ছায়া,
তোমায় নিয়ে আমার স্বপ্ন 
তোমার স্পর্শে ভরা। 
   (২৩/০৪/২০০৪)

Tuesday, October 22, 2013

বেলাভূমির গান 

আমি সেই বেলাভূমির গল্প জানি -
যার বালুরাশি আমায় ভালবাসে,
যার তীর  জুড়ে এলোমেলো -
হাজারো কোরালের তিক্ষ্ণতা, 
বুনো কেয়ার ঝাড় আর অবিশ্রান্ত বাতাস। 

ঝিলমিল রোদ্র যেখানে নরমনীল স্রোতরাশিতে -
মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে,
উড়ুক্কু মাছের দল ঝাক বেধে লাফিয়ে ঝাপিয়ে 
ছুতে চায় কাকে?

আমি সে বেলাভূমির গল্প জানি -
যেখানে হাজারো  নাম না জানা বেগুনী ফুলেরা - 
অপেক্ষায় প্রিয়ার খোপায় উঠবে বলে,
বড় দানো কাছিমের দল যেখানে রোদ্র পোহায় -
যাবার আগে রেখে যায় বংশধরদের,
বড় বড় ডানা ঝাপটিয়ে এখানে খেলায় মেতে আছে 
পরবাসী নির্ভিক পাখির দল,
আমি সেই বেলাভূমে পরে আছি চন্দ্র-পাগল হয়ে,
জোছনা লোকে ভেসে যাচ্ছে এখন চারদিক,
মাতাল করা কেয়া ফুলের গন্ধে
ঝিম ধরে গেছে প্রকৃতিতে,
ভীষণ জোছনায় একসময় তার উত্সও অদৃশ্য হয় -
দিগন্তহীন সমুদ্রও এ সময় হয়ে ওঠে একদম শান্ত -
মৃদু মন্দ হাওয়া কেয়া ঝারকে বলে- চুপ কর !
এখানে রচিত হবে একটি ভালবাসার গল্প। 
                       (২০/০৩/২০০৪)

এখনো স্বপ্ন 

ঝমঝম বৃষ্টিতে বসে আছি আমরা দুজন 
তোমার নরম কালো চুল বেয়ে ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি 
আমি যে কী ভীষণ ভালবাসায় ধরে আছি তোমার হাত। 

আমরা বসে আছি টসটসে সবুজ ঘাস বাগানে 
থোকা থোকা বন্য নীলচে না জানা পুষ্প মাঝে 
কি যে ভীষণ ইচ্ছে করছে তোমার ঠোটে ঠোট রাখতে। 

এতো সুন্দর এতো আনন্দ এতো শুদ্ধতা তোমার সান্নিধ্যে 
প্রিয়া মোর আমার কাধে মাথা দিয়ে আবেশিত বৃষ্টি স্নানে 
সব বাধা ভুলে গিয়ে জড়িয়ে ধরি তোমায় মহাশক্তিতে। 

এখন মূল্যহীন হলো নিমিষেই সব সুরার পাত্র 
সমাজ সংসার বোধ বুদ্ধি যুক্তি হঠাতই অপ্রয়োজনীয় হলো 
এখন স্রষ্টাও সবকাজ স্তব্ধ করে মুক্তি দিলো দুই মানব মানবীকে । 

এই দুই মানব - মানবী এখন হাটছে 'ডাল' হ্রদের তীর থেকে 
তীর  জুড়ে গহীন হয়ে বেড়ে উঠেছে পাইন, বার্চ আর সিডারের বন 
নিঃস্তব্ধতার মাঝেই মুক্তি পাবে প্রেম, যেখানে বন আরো বেশি দুর্গম হবে। 
                                         (১৭/০৫/২০০৪)
শেষ সংলাপ 

'শোনো, তোমার ওই অক্ষি পল্লব আমার 
                               শুধু ই আমার। '
-'বললেই হলো, তোমায় দিতে আমার 
                              বয়েই গেছে। '
"ওই পাপড়ি কোলে একটি চুম্বনের বিনিময়ে 
                            কি চাও তুমি ?
সহস্র রাত্রি তোমায় নিয়ে গাইবো আমি 
শত সন্ধা তোমার কেশে মুখ গুজে থাকব 
প্রয়োজনে লড়বো আমি 
                         প্রাচীণ ডেনিশ সম্রাটের মতন 
তোমাকে বানাবো সম্রাগ্গী। 
আরো চাও তো ,
যাব আমাজানের গহিনে 
কিংবা আল্পসের চূড়ান্ত শিখরে। 
মাছরাঙআ চাও কি?
কিংবা প্রাচীন বুড়ো কচ্ছপ - 
সব আমি নিয়ে আসব শুধু তোমার জন্য। "

- "কে বলেছে  দিতে ওসব 
দুটো আখিই তোমায় দিলেম 
চাইনিতো আমি অন্য কিছু 
তোমার ভালোবাসায়। "
              (২৭/০৪/১৯৯৯) 
    প্রেম উপাসনা

মেঠো লাল ঢালু পথের শেষে
থোকা থোকা  নীলচে ফুল ঘাসপাতার ফাঁকে
অবাক আয়ত নয়ন মেলে চেয়ে থাকে -
এভাবেই অনন্তকাল কেটে যায়
ধ্রুবতা হারায় ধ্রুবতারাও
তবু  কালতো ফুরোয় না সুরাসিক্ত মাতালের
সেযে কিউপিডের ছোড়া তীরে ভীষণ আহত।

মধ্য দুপুরে মাছরাঙআ একমনে তাকিয়ে দীঘির জলে
ভাবে - "এতরূপ আমায় কেনো দিলে গো প্রভূ ?
যদি ঐ জোছনা পাগল কবি, মোর ঠোটে নাইবা রাখে ঠোট
তবে কৃষ্ণ কালো রজনীর তরে যেন বলি হই আমি।"

এভাবেই এক কবি মহা প্রভু ভুলে
উপাসনা করে যায় সারাটি জীবন -
যদি একটি বারেও ঐ চুম্বন-সুরা, আলিঙ্গন করে।

তারা দুজনেই দুজনার কাছে ঈশ্বর
কিন্তু মহাশক্তিধর ! সেতো একজনই হয়
তাই মিলন হলনা তাদের কখনো।
               (১৪/০৪/২০০৪)