Translate

Wednesday, November 20, 2013

তোমায় নিয়ে যাচ্ছি বহুদূরে

হলদে পাখি কোথায় ছিলে এতদিন ?
ঘুম দুপুরে নাগলিঙ্গম ফুলের রেনু গায়ে 
কাঠালিচাপার মাতাল করা গন্ধে 
একটু বসে যাবে?
তোমায় আমি রাধাঝুমকোর হার পরাব 
অষ্টপ্রহর নিয়ে বেড়াব নীল শাপলার বিলে 
তুমি যাবে আমার সাথে?
হলদে পাখি -
নক্ষত্র বিছানো আকাশের পারে 
হাসনুহেনার মদীর গন্ধ গায়ে মেখে 
ঘন বনে ছাওয়া পাহাড়ে, বাশ ফুলের খোঁজে
যাবে? 
আমিতো অনন্তকাল তোমার অপেক্ষায় -
সপ্তর্ষি হারিয়ে গেলো 
হীম শীতে কুকড়ে আছি আমি 
হলদে পাখি -
বুঝতে পারছনা তুমি।


ক্লান্ত কবি 

তুমি আমার প্রথম সর্বনাশ 
শেষ বেলাতে আমি যখন ভীষণ ক্লান্ত 
তুমি আমার আবার সর্বনাশ।

অহংকারী অংশুমালী তুমি 
সেটাও তোমায় মানায় ভালো 
তোমার ওই রূপের ডালি  
কোথায় রাখি বল ?
প্রেমিক যখন ভাবছে বসে 
সব পেয়েছি আমি -
ঠিক তখনি শেষ বেলাতে 
আবার এলে তুমি। 

প্রভু ! মুক্তি কোথায় বলো ?
সুরার পাত্রে প্রিয়ার ছায়া 
কোথায় তোমায় পাব ?
আজ শেষ বেলাতে মৃত্যু আমায় ডাকে,
তোমার স্পর্শ বিনা 
যাচ্ছি কেমন করে?

তোমার হাত দুখানি আমার হাতে 
তোমার চোখে আমার চোখে অনন্তকাল।
শেষ বেলাতে আমি যখন ভিষণ ক্লান্ত 
প্রিয়া, তোমার দেখা কি আর পাবোনা?

Monday, November 18, 2013

আবারো লিলিথ ঈশ্বরচ্যুত করেছে আমায় -২

জীবনানন্দের দিব্যি আমার প্রিয়া 
ফিরিয়ে নিয়ো না চোখ 
ঐ চোখে চোখ রেখে মিটেছে 
              অনন্তের পিয়াসা। 

তোমার চোখে দেখেছি আমি 
লিলিথের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা 
তোমার চোখে জ্বলে পুড়েছে 
কত কেসানোভা, কত অযোধ্যা। 

স্রষ্টার অভিশাপের বোঝায় 
ন্যুজ আমি শয়তান 
তবু লিলিথের চোখেই আমি 
পেয়েছি আমার গান। 

বলেছি, আঁখি মিলনে নেশাগ্রস্ত হয়ে 
আমায় যেও না ছেড়ে। 
ধরেছি তোমার হাত 
মথিত শরীরে এভাবেই 
অনন্তকাল চলে যাক। 
        (১৬.১১.১৩; ১১:৫৫ রাত্রি) 


Sunday, November 17, 2013

আবারো লিলিথ ঈশ্বরচ্যুত করেছে আমায় - ১


বারে বারে এসেছি এখানে ডন জুয়ান হয়ে 
শেষ সূর্য রশ্মিকে বাজি ধরে 
বারে বারে তোমার চোখে চোখ রাখতে গিয়ে 
তবুও লিলিথ তুমি, আবার এসেছ ফিরে।

আমায় নিয়ে খেলেছ, শত শতাব্দী ধরে 
তবুও তোমায়, হারাতে চাইনি ভুলে 
তোমার চোখে চোখ রাখতে গিয়ে 
আমিই কেসানোভা তুমিই লিলিথ 
ঈশ্বরচ্যুত হয়ে। 

লিলিথ লাস্যময়ী সর্বনাশা 
চোখের সাথে চোখ পড়েছে বাঁধা 
আগুনে জ্বলছে ডন জুয়ানের বুক 
তবুও লিলিথ তোমায় পেয়েই পাচ্ছি আমি সুখ। 

ইবলিশ তনয়া লিলিথ 
চোখের গভীরে একসমুদ্র সিডাকশান
কখনো কেসানোভা কখনো ডন জুয়ান
অনন্তের অভিশাপ নিয়ে ঘর বেঁধেছি আমরা। 

ভুলে যেও না আমিই ডন জুয়ান
আমার প্রেম জ্বালিয়ে দিয়েছে 
কত লিলিথের প্রাণ 
তবুও আমিই ডন জুয়ান 
রঙ্গ লীলার শেষ অঙ্কে তাই 
শুধু লিলিথের ঘ্রাণ। 
          (১৬.১১.১৩, ১১:৪৫ রাত্রি)
 

Tuesday, November 12, 2013

শুকনো কাদার পরী 

দুষ্ট পাখি, কষ্ট পাখি আমার 
ছোট্ট পাখি, নষ্ট পাখি আমার 
সারাটি ক্ষন ভাবছি তোমায় 
স্বপ্নে আমার সঙ্গিনী 
জানতে যদি -
কতটা তুমি আমার?

শত স্পর্শে একটা ছোঁয়া তোমার 
পুড়িয়ে দিচ্ছে আমার হৃদয় 
ভীষণ কষ্ট অবাক সুখে 
ভায়োলীনতো যাচ্ছে বেজে। 

হঠাত এমন হয় 
সমাজ সংসার তুচ্ছ হয়ে 
চৌরাসিয়ার বাশি বেজে 
তোমার সঙ্গে সঙ্গপনে 
বাসর সজ্জা হয়। 

দুষ্ট পাখি আমার 
ছোট্ট পরী আমার 
তোমায় যে বলাই হইনি কিছু 
তোমার চোখে চোখ রেখে খুব 
বলতে ইচ্ছে করে
তুমি শুধুই আমার।

নদীর জলে খুঁজে ফিরছি তোমায় 
শুকনো কাদায় মূর্তি গড়ি তোমার 
আমার কাব্য পড়ছ না?
আমার গন্ধ পাচ্ছ না?
তবু ছোট্ট পাখি আমার 
ভালবাসছি তোমায়। 

গুনগুনিয়ে গাইছ তুমি 
হাসছ তুমি সারাটি ক্ষন 
সামনে বসে আমার 
পুড়ছি আমি জানতে যদি?
সকল শিকল ছিন্ন করে 
সঙ্গি হতে আমার।

Saturday, November 9, 2013

বোহেমিয়ান স্বপ্ন 

আমি এখনো স্বপ্ন দেখতে পারি -
আমি এখনো তোমায় আঁকতে জানি,
আমি এখনো শিস দিয়ে উঠি আনন্দে 
আমি এখনো জন্মান্তরে শুধু তোমার জন্যে। 

আমি এখনো অভিশাপ আর ধ্বংস 
আমি এখনো সৃষ্টি আমার , চুরমার করি অহরনিশ। 
আমি এখনো মাতাল নেশাগ্রস্ত -
আমি এখনো মহুয়া রসে সুরাসিক্ত।

আমি এখনো গান গাই -
                   গান গাই সারা রাত ,
আমি এখনো এলোমেলো পায়ে 
                  ছুটে চলি নির্বাক। 

আমি এখনো পুশকিনের নীলাভ গান
আমি এখনো ঘন ঘাসে ভরা স্তেপের রাজ্যে 
                   পথহারা বোহেমিয়ান । 

আমি এখনো আমাজন লিলি বুকে নিয়ে বলি -
                  এত রূপ তুই কোথায় পেলি,
আমি এখনো যে মধ্য রাতের উন্মাদ কবি 
আমি এখনো যে তোমায় ভীষণ ভালোবাসি।
 
                  

অমরত্ব 

কতটা ভাগ্য নিয়ে জন্মালে পরে 
প্রিয়ার হাত দুখানি আমার হাতে,
প্রিয়ার রেশমগোছা কৃষ্ণ কেশে 
আমার ক্ষুধার্ত দীর্ঘশ্বাস পড়ে। 

কতটা স্বপ্ন দেখতে জানলে পরে 
একদিন বৃষ্টি ভেজা আঁধার রাতে -
প্রিয়ার ভেজা ওষ্ঠ যুগল, আমায় সিক্ত করে 
প্রিয়ার তপ্ত স্পর্শ - আমায়, পূর্ণ করে তোলে। 

কতটা নির্ঘুম রাত অর্ঘ্য দিলে পরে 
সত্য প্রেমের মাঝে পূর্ণতা আসে -
প্রেমিকের ভীষণ কঠিন আলিঙ্গনে,
তার প্রিয়া বাঁধা পরে অনন্তের তরে।

Thursday, November 7, 2013

একরাশ অন্ধকার 

তুমি এসেছিলে আমার বক্ষ জুড়ে 
দুলেছিলে আমায় নিয়ে দুবলা বনে 
দেখেছিলে প্রণয় ঝড়ের নির্জনতা 
বলেছিলে টোপাপানার বোবা কথা। 
আমি বুঝতে পারিনি 
         তাই হারতেও চাইনি,
আমি কল্পতরুর মালা গাঁথি 
স্বপ্ন - গল্প একাকার করে,
হৃদয় নিয়ে খেলা করি 
আমার ব্যথা তোমার ব্যথা,
দুখের পিঠে সুখকে গড়ি - মূর্তি গড়ি। 
অবাক হলাম, নষ্ট হলাম 
পুরুষ মানুষ, তবুও আমি নষ্ট হলাম 
ধরতে গিয়ে প্রবল ঝড়ে তোমার ছায়া 
পাইনি  ছুঁতে - তাইতো আমি একলা চলি। 
অবেলায় সূর্যটা যায় ডুবে 
          প্রায়ই এমন হয় 
শুধু আমার বেলায়, অন্য কারো নয়। 
আমি হারতেও চাইনা 
আবার জিততেও পারিনা 
তাই সংগ্রাম করি না - আর সবার মতন। 
রাতের শেষটা আমার 
শুরুটা দিয়েছি কবেই,
ঝুমকো ফুলের রেনু মেখে 
তোমায় আলতো ছুঁয়েই।
তারপরও বয়ে যায় সব নদী 
যতদিন গাড় পলি পড়ে নালা হয়ে যায় 
তারপরও ঝড় আসে, অঝোরে ঝরে বৃষ্টি 
আবির রঙে রাঙা হয় ভোর,
সব থাকে, এমনকি বিলুপ্ত নীলপদ্মও
শুধু নেই হয়ে গেছি আমি 
           তোমার বিয়োগ তিথিতে। 
                        (৯/১১/২০০০)

বিষন্নতা 

তাল কেটে গেছে আমার 
      অষ্টপ্রহরের মিনতি -
বৃথায় গেছে। 
      জোছনালোকের অমরাবতী মিথ্যে হয়ে 
সরে গেছে,
বহুদূরে।
মাঝরাত্রির ডাহুক হয়ে নিঃসঙ্গ বৃক্ষচারী 
       অবাক আমি,
নতুন করে স্বপ্ন দেখার আর্শিটা আজ 
      ভেঙ্গে গেছে, 
শত টুকরে।
রঙ্গনের রক্তিমতা আমার নয় 
     রক্তিমতা মিলিয়ে গেছে কোজাগরে,
টুকরো হয়ে,
শঙ্খচিল তুমি কোথায় গেলে 
কোথায় গেলে আমায় ফেলে,
আমিতো থাকছি কেমন 
একলা হয়ে 
বদ্ধ ঘরে। 
শ্যামারা দুবলা বনে গান শুনিয়ে 
আমায় ডাকে,
আমিতো শ্যাওলা দীঘির -
বদ্ধ জলাশয়ে,
আমি আসব কেমন করে ?
শেষ কাব্য - ৩

কবির হৃদয় কাঁপে তবু হাত থামে না 
কবি - ওই কাব্য আর লিখনা। 

শীতল তনুতে স্পর্শ পাবার আশায় 
ওই নারী পথ চেয়ে আছে বৃথায় ,
খোপায় জড়িয়েছে দোলনচাপার ঝাড় 
দেহ জড়িয়ে রেখেছে তার নীল শাড়ি নীল পাড়। 
না কবি আর নয় তার পানে পদযুগল 
আর নয় কাব্যমালায় তার কথন। 
এখন নিশ্চিত মধ্যরাত, নরম জোছনা 
সরু গলি, বড় রাস্তা ছেড়ে বেশ ভেতরে 
কবি একা হাঁটে, নিরবে 
আঁধারে খোঁজে কার কায়া যাকে যায়না ছোঁয়া। 

কাব্যে আর পাবেনা তুমি বিথিকাবনের রাজকন্যাকে
রাজকন্যাযে হারিয়ে গেছে -
হারিয়ে গেছে ঘন স্তেপের আড়ালে,
যাবেকি খুঁজতে তাকে বহু দূরের ঘন বনে 
পাবে কি লক্ষ তারার মাঝ থেকে প্রেয়সীকে 
কেসেন্দ্রা রূপে বসে আছে 
মরণ চুম্বনের অপেক্ষায়। 
             (২৫/১০/২০০১)
শেষ কাব্য - ২

মনের মাঝে করুন সুরে ডাকছ তুমি কে?
বলতো খুন হয়ে যাই তোমার মধু পিয়ে। 
তুমি কি জানো, হাসলে তুমি ছুরি বিঁধে আমার বুকে 
ঝনঝনিয়ে ওঠে আমার শরীরটা এক অবাক সুখে। 
আমি যে আজব মানুষ স্পর্শ হীন তোমার কাছে 
তুমি কি জানো আমার ইচ্ছে করে তোমায় ছুঁতে। 
হয়ত আমি লম্পট, তবু সেতো শুধু তোমার কাছে 
চাও যদি তো হব আমি মুনি ঋষি তোমার তরে। 
আমি আজ হারিয়ে গেছি কঠিন নেশায় তোমায় চেখে 
নাইবা এলে রেখে গেলাম কাব্য মালা তোমার তরে।
                               (অক্টোবর, ২০০১)
শেষ কাব্য - ১

প্রিয়া , আমি আজ কেমন করে তোমায় স্পর্শ করি 
কোন মাটিতে গড়ি তোমার অমন রূপের মূর্তি 
সব মাটিতো ধুয়ে গেছে নদীর জলে। 

কালি শুকিয়ে আঁকবো 
অতবড় কবি নই যে আমি,
কিন্তু আমার হৃদয় কাঁপে, শরীর কাঁপে 
অথচ হাতখানি যে থেমে আছে 
সে কথা আজ কেমন করে বলি। 

তুমি তো তেমন নও যে হারিয়ে যাবে 
তুমি যে অষ্টপ্রহর হাসছ আমায় দেখে 
জানতে যদি - 
তুমি কলমিফুলের করুণ আভা আমার কাছে 
পারছিনা যে ছুঁতে। 

আমি যে নিজেই একটা শুকনো নদী 
আমার তরী বাইবো বলো কেমন করে 
তুমি তাই দূরেই থাকবে, দূরেই থাকো,
আমি ছাই বাসব ভালো একলা মনে 
নিজের ঘরে নিজের সুরে আমার কলম দিয়ে।  
                          (অক্টোবর, ২০০১)

Friday, November 1, 2013

 মাতাল কাব্য 

ওগো  তোমার ওষ্ঠ- শরাব পিয়ে 
মাতাল কবি আমি 
পূর্নিমাতে স্নানোত্সবে গাইবে এখন তুমি।

স্বপ্ন তো নয় - দিব্যি আমি দন্ডায়মান 
সূচাগ্র শিখর গলে আসছে মায়া - বিষের ভান্ড। 

প্রিয়াগো তোমার ওষ্ঠে প্রজাপতি 
শাপলা কুঁড়ি ; তাকিয়ে আছ মেঘ্সমুদ্রে 
ঐ দেবতার সাধ্যি কি - ঝমঝমিয়ে ঝরায় বারি। 

দেবতারা দিচ্ছে আমায় অভিশাপ 
তবুও তোমায় ছুইব আমি, গাইব আমি 
ওষ্ঠে তোমার আঁকব আমি চিত্রকলা 
তোমার মাঝে বিলীন হবো সারাবেলা। 

খৈয়াম, সাকী আগলে রুবাইয়াতে 
হাফিজও ছাড়তে নারাজ তার প্রিয়াকে 
আমার প্রিয়া শুধুই থাকবে আমার মাঝে।